বৃহস্পতিবার, ১৮ জানুয়ারী, ২০১৮ (১৮:১০)

সেই অস্ত্রধারীর নাম নিয়াজুল ইসলাম খান

যারা নিজের হাতে আইন তুলে নিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল

হকার উচ্ছেদ ইস্যুতে মঙ্গলবার নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর ওপর শামীম ওসমানের সমর্থক ও হকারদের হামলায় অস্ত্রহাতে একজনকে ছুটে যেতে দেখা যায় তার দিকে।

পুলিশ ও এলাকাবাসীর মাধ্যমে জানা গেছে, অস্ত্রধারীর নাম নিয়াজুল ইসলাম খান।

আইনের তোয়াক্কা না করেই জনসমক্ষে তার অস্ত্র প্রদর্শনের ক্ষমতার উৎস নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

হামলাকারীদের গ্রেপ্তারে সাংবাদিকদের দেয়া ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটামের পর থেকেই গা ঢাকা দিয়েছে নিয়াজুল। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এদিকে, আজ -বৃহস্পতিবার রাজধানীতে এঘটনায় ঘটা সংঘর্ষের সময় ‘যারা অস্ত্র দেখিয়েছে, যারা নিজের হাতে আইন তুলে নিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

রাজধানীর তেজগাঁওয়ে কেন্দ্রীয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীতকরণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভির ওপর সশস্ত্র হামলা এবং এরপর আইভী ও সাংসদ শামীম ওসমানের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় কাউকে ছাড় না দেয়ার ‘অ্যাসিওরেন্স’ দেন তিনি।

হকার উচ্ছেদ ইস্যুতে মঙ্গলবার নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়ায় সেলিনা হায়াৎ আইভী ও তার সমর্থক ও নগরভবনের কর্মকর্তা-কর্মচারীর ওপর শামীম ওসমান সমর্থক ও হকাররা হামলা চালায়। গুলি ছুঁড়ে, পিস্তল হাতে আইভীর দিকে ছুটে যায় অস্ত্রধারী নিয়াজুল।

পুরো নাম নিয়াজুল ইসলাম খান। শহরের চাঁদমারী এলাকার বাসিন্দা নিয়াজুল যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। বিএনপি-জামাত জোট সরকারের আমলে র্যা বের ক্রসফায়ারে নিহত যুবলীগ ক্যাডার নজরুল ইসলাম সুইটের ভাই তিনি। ১৯৮৬ সালে নাসিম ওসমান সাংসদ হলে নিয়াজুলের উত্থান হয়। '৮৮ -তে কামাল-কালাম জোড়া খুনের আসামি তিনি। '৯৬ সালে শামীম ওসমান সাংসদ নির্বাচিত হলে তার হয়ে কাজ করেন। নিজেকে পরিচয় দিতেন যুবলীগের নেতা বলে। শামীম ওসমানের ক্যাডার হিসেবেই পরিচিতি রয়েছে তার।

১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত এলজিইডির ঠিকাদারি ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করেছে নিয়াজুল। চাঁদমারীতে সেনাবাহিনীর জায়গায় বস্তি নিয়ন্ত্রণ করতেন। ১/১১ তে সেনাবাহিনী সেই বস্তি উচ্ছেদ করে। ভূমিদস্যুতা, ঝুট ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে তার নাম। বর্তমানে, নগরীতে হোটেল, গার্মেন্টস ও মার্কেটেসহ বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা রয়েছে তার।

এক সময়ে যুবলীগের এই নেতা শামীম ওসমানের অনুগত এবং তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধে মামলা ও সাজার কথাও জানান নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম ও নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবলীগের সভাপতি আব্দুল কাদির।

এদিকে, আইভী ও সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় বুধবার সাংবাদিকরা অস্ত্রধারী নিয়াজুলকে গ্রেপ্তারে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেয়ার পর থেকেই পলাতক সে।

তাকে ধরতে চেষ্টা চলছে বলে মুঠোফোনে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার।

এই ক্যাটাগরীর আরও খবর

পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ সন্ত্রাসী নুরুল ইসলাম নিহত

লামায় যৌথ অভিযানে ২৫টি আগ্নেয়াস্ত্র-গুলিসহ ৪ জন আটক

লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনে হামলার ঘটনায় বিএনপির দুই নেতাকে জিজ্ঞাসাবাদ

মানববন্ধন শেষে আটক হলো বিএনপি নেতা দুদু

বিএনপির চেয়ারপারসনের যত মামলা

কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছেনি খালেদার ডিভিশনের কাগজপত্র

পুলিশের বিশেষ অভিযানে নড়াইল-কুমিল্লায় আটক ৪৪

কিভাবে হলো জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা?

সংগীতশিল্পী সাবা তানি না ফেরার দেশে

খালেদাকে ছাড়া কোনো নির্বাচন নয়: বিএনপি

খালেদার আরও বেশি সাজা হওয়া উচিত ছিল: আইনমন্ত্রী

বস্তা দেয়া হচ্ছে হিমাগারে: পাট সচিব