আদালত

রবিবার, ২৬ নভেম্বর, ২০১৭ (১৭:১৯)

পিলখানা হত্যাকাণ্ড: রায় পড়া শেষ হবে কাল

হাইকোর্ট

বিডিআর বিদ্রোহে পিলখানায় সংঘঠিত হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় করা হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায় পড়া প্রথম দিনের মতো শেষ হয়েছে। কাল-সোমবার পূর্ণাঙ্গ রায় পড়া শেষ হবে জানিয়েছেন বেঞ্চের বিচারপতি।

রোববার বিচারপতি মো. শওকত হোসেনের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যর বিশেষ বেঞ্চে আলোচিত এ হত্যা মামলার রায় পড়া শুরু হয়।

বেঞ্চের অপর দুই সদস্য হলেন: বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকী ও বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার।

দেশের ইতিহাসের আসামি সংখ্যার দিক থেকে এটি সবচেয়ে বড় মামলা।

রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও স্থিতিশীলতা বিনষ্টের চক্রান্ত ছিল বিডিআর বিদ্রোহ।

বিচারপতি আবু জাফর বলেন, রোববার রায় পড়া শেষ হবে না— রায়ে এক হাজার পৃষ্ঠার পর্যবেক্ষণ রয়েছে।

এ পর্যন্ত পড়া রায়ের পর্যবেক্ষণে নারকীয় এ হত্যাকাণ্ডকে নৃশংস ও বর্বরোচিত বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

আদালত জানিয়েছে, মুক্তিযুদ্ধের সময় তৎকালীন ইপিআর পাকিস্তান বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। সীমান্তরক্ষায় নিয়োজিত এ বাহিনী দেশে-বিদেশে সম্মানের সঙ্গে কাজ করেছে। কিন্তু ২০০৯ সালে পিলখানায় তৎকালীন বিডিআরের কিছু সদস্য আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। এ কলঙ্কচিহ্ন তাদের অনেক দিন বয়ে বেড়াতে হবে।

একসঙ্গে ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাকে হত্যার নজির ইতিহাসে নেই।

আসামিসংখ্যার দিক থেকে এ মামলা দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় মামলা। ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় ওই হত্যাযজ্ঞে ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন প্রাণ হারান। এই হত্যা মামলায় ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর বিচারিক আদালত রায় ঘোষণা করে।

আজ -রোববার হাইকোর্টের রায়ের মধ্যদিয়ে মামলাটির বিচারপ্রক্রিয়ার দুটি ধাপ শেষ হতে যাচ্ছে।

বিডিআর জওয়ানদের ওই রক্তাক্ত বিদ্রোহের পর ৫৭টি বিদ্রোহের মামলার বিচার হয় বাহিনীর নিজস্ব আদালতে। আর হত্যাকাণ্ডের বিচার চলে পুরান য়াকার বকশীবাজারে আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত মহানগর দায়রা জজ আদালতের অস্থায়ী এজলাসে।

ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. আখতারুজ্জামান ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর এ হত্যা মামলায় যে রায় ঘোষণা করেন।

ওই রায়ে বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেয়া বিডিআরের উপ সহকারী পরিচালক তৌহিদুল আলমসহ বাহিনীর ১৫২ জওয়ান ও নন-কমিশন্ড কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ডের আদেশ আসে। পাশাপাশি তাদের প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়।

এ মামলার সাড়ে ৮০০ আসামির মধ্যে ওই রায়ের দিন পর্যন্ত জীবিত ছিলেন ৮৪৬ জন। তাদের মধ্যে ১৬১ জনকে দেয়া হয় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।

পাশাপাশি অস্ত্র লুটের দায়ে তাদের আরও ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা জারিমানা, অনাদায়ে আরও দুই বছরের কারাদণ্ড দেন বিচারক। এ ছাড়া ২৫৬ আসামিকে তিন থেকে ১০বছর পর্যন্ত বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেয়া হয়। কারও কারও সাজার আদেশ হয় একাধিক ধারায়।

অপরাধে সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত না হওয়ায় রায়ে ২৭৭ জনকে বেকসুর খালাস দেয় বিচারিক আদালত।

রায়ের বিরুদ্ধে খালাসপ্রাপ্ত ২৭৭ জনের মধ্যে ৬৯ জন আসামির সর্বোচ্চ সাজা চেয়ে হাইকোর্টে ফৌজদারি আপিল ও ডেথ রেফারেন্স দায়ের করে রাষ্ট্রপক্ষ।

এদিকে, দণ্ডপ্রাপ্ত ৪১০ আসামির সাজা বাতিল চেয়ে আপিল করেন তাদের আইনজীবীরা।

এর মধ্যে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত কয়েক আসামির মৃত্যুদণ্ড ও কয়েকজনের সাজা বাড়াতে আরও দুটি আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। কিন্তু দেরিতে আবেদন করায় গত ১৩ এপ্রিল আবেদন দুটিও বাতিল করে দেয় হাইকোর্ট। পরে এর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করলে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ হাইকোর্টের আদেশই বহাল রাখে।

রক্তাক্ত ওই বিদ্রোহের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিডিআর) এই নাম পরিবর্তন করা হয়। নাম বদলের পর এ বাহিনী এখন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) হিসেবে পরিচিত।

 

ইউটিউবে দেশ টেলিভিশনের জনপ্রিয় সব নাটক ও অনুষ্ঠান দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Desh TV YouTube Channel

এছাড়াও রয়েছে

নাটোরে স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীসহ দুই জনের মৃত্যুদণ্ড

জামিন পেলেন আসিফ

কুমিল্লার মামলায় জামিন পাননি খালেদা জিয়া

কুমিল্লার মামলায় খালেদার জামিন শুনানি মুলতবি

খালেদার কুমিল্লার মামলার শুনানি রোববার পর্যন্ত মুলতবি

নড়াইলেও খালেদার জামিন নামঞ্জুর

খালেদা জিয়ার যুক্তিতর্কের দিন পিছিয়ে ২৮ জুন ধার্য

চাঁদাবাজির মামলায় চট্টগ্রামে ছাত্রলীগর সাবেক সম্পাদক নুরুল কারাগারে

কোস্টারিকার ০-২ ব্রাজিল

ইন্দোনেশিয়ায় ধর্মীয় নেতার মৃত্যুদণ্ড

নওগাঁয় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২

ময়মনসিংহে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত ২